নিজস্ব প্রতিবেদন, দ্য সহজপাঠ ডেস্ক : রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখনই স্বস্তির কারণ নেই। বরং আগামী দুই মাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নবান্ন। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডেঙ্গির সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় এই সময়কে ‘হাই-রিস্ক পিরিয়ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসনকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ডেঙ্গি মোকাবিলায় কোনও ধরনের শিথিলতা বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগামী দু’মাসে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য, পুরসভা, পঞ্চায়েত সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে সমন্বয় করে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও যাতে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, তার জন্য নিয়মিত নজরদারি ও পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লার্ভা ধ্বংসের কাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুধু ডেঙ্গির রিপোর্ট সংগ্রহ করলেই হবে না। জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোথাও সংক্রমণ বাড়ার ইঙ্গিত মিললে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, বর্ষা শেষের পর ডেঙ্গির সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে চাইছে রাজ্য।
এদিকে, অগস্ট পর্যন্ত ২০২৬ সালে রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যুর হিসেব সামনে এসেছে। তবে ডেথ রিভিউ কমিটির মতে, তাঁদের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যুর সরাসরি কারণ ডেঙ্গি। বাকি ৩ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলেও মৃত্যুর কারণ অন্য। ২০২৫ সালে ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৯ জনের এবং ২০২৪ সালে ৩১ জনের।ফলে সংক্রমণ কম থাকলেও আগামী দুই মাসে নজরদারিতে কোনও ঘাটতি রাখতে চাইছে না নবান্ন।