নিজস্ব প্রতিবেদন, দ্য সহজপাঠ ডেস্ক : মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার অন্তর্গত ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে অবস্থিত পাঁচথুপি গ্রাম। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই গ্রামের অন্যতম আকর্ষণ ঘোষ হাজরা পরিবারের সিংহবাহিনী বাড়ির দুর্গাপুজো। স্থানীয়ভাবে ‘বড়তরফের পুজো’ নামে পরিচিত এই পুজোর বয়স প্রায় সাতশো বছর। সময়ের সঙ্গে জমিদারি প্রথা হারিয়েছে, বদলেছে সামাজিক পরিকাঠামোও। কিন্তু পরিবারের প্রাচীন পুজোর রীতি ও আচার আজও অটুট।
এই বাড়িতে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় জিতাষ্টমী থেকে। পরিবারের গৃহদেবী অষ্টধাতুর সিংহবাহিনী মূর্তির পাশাপাশি দুর্গাপুজোয় পূজিত হন মৃণ্ময়ী দশভুজা প্রতিমাও। পুজোর অন্যতম আকর্ষণ সপ্তমীর গভীর রাতে অনুষ্ঠিত বিশেষ ‘অধরাত্রি পুজো’। কোনও বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার না করে শুধুমাত্র বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই বিশেষ আরাধনা।
পুজোর প্রতিটি দিনেই রয়েছে নির্দিষ্ট রীতি। দেবীর ভোগে প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় নতুন পিতলের বাসন এবং নিবেদন করা হয় পায়েস। এই পরিবারের পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক মন্দিরও। ১৩৪৯ বঙ্গাব্দে হরিপদ ঘোষহাজরার উদ্যোগে নির্মিত প্রায় ১২৫ ফুট উচ্চতার ত্রিতল মন্দিরটি স্থাপত্য ও টেরাকোটা শিল্পের দিক থেকেও বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
বোধনের বেশ আগেই জিতাষ্টমী থেকে শুরু হয় উৎসব। দুর্গাপুজোর মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর ত্রয়োদশীর বিশেষ পুজোর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ এই আয়োজনের। পুজোর দিনগুলিতে শুধু পাঁচথুপি নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বহু মানুষ ভিড় করেন সিংহবাহিনী বাড়িতে।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঘোষহাজরা পরিবারের সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে এই প্রাচীন পুজোর রীতিনীতি পালন করে আসছেন। তাই পাঁচথুপির সিংহবাহিনী বাড়ির দুর্গাপুজো আজও শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং বাংলার প্রাচীন পারিবারিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত নিদর্শন।